
গাজী কুদ্দুছুর রহমান সোহাগ, কুমিল্লা প্রতিনিধি।
জাতীয় সংসদে আবারও কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন। একই সঙ্গে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নকে নতুন উপজেলা হিসেবে ঘোষণারও দাবি জানান।বুধবার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব দাবি উত্থাপন করেন।আলোচনার শুরুতে রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বিগত সরকারের দুই দশকের দুর্নীতির চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “কুমিল্লা-৫সহ বৃহত্তর কুমিল্লার মানুষের দীর্ঘ ৪২ বছরের প্রাণের দাবি কুমিল্লা বিভাগ। এ দাবি নিয়ে নানা সময় ষড়যন্ত্র, হাসি-তামাশা ও কালক্ষেপণ করা হলেও আজও বাস্তবায়ন হয়নি।”কুমিল্লা শহরের যানজট পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রশাসনের কার্যক্রমের ফলে যানজট অনেকটাই নিরসন হচ্ছে।
নিজ নির্বাচনী এলাকার অবকাঠামোগত দুরবস্থার কথা তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে কুমিল্লার গোমতী নদী তীরবর্তী এলাকা এবং বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।
ময়নামতিকে উপজেলা করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এলাকা। দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চলকে উপজেলা ঘোষণার দাবি রয়েছে।এছাড়া তিনি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আনে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সড়ক একনেকে অনুমোদিত হলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার সংযোগ সড়কটির প্রস্থ মাত্র ১০ ফুট হওয়ায় তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।ময়নামতিতে প্রস্তাবিত ৫০ একর জমির ইপিজেড প্রকল্প বাতিল হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি ওই জমিতে একটি ছোট ইপিজেড স্থাপনের দাবি জানান।ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার অংশে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব সড়কের দ্রুত সংস্কার ও উন্নয়নে যোগাযোগমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।