
গাজী কুদ্দুছুর রহমান সোহাগ, বুড়িচং প্রতিনিধি।
কুমিল্লার বুড়িচং পৌরসভা সদরে অবস্থিত আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠটি এখন প্রভাবশালী একটি চক্রের দখলে। মাঠ দখল করে প্রকাশ্যে চলছে ইট, বালু ও পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর রমরমা ব্যবসা। স্কুল-কলেজের শত শত শিক্ষার্থী নিয়মিত খেলাধুলা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত করে অবৈধভাবে দখল করে আছে এ চক্রটি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাঠটির একাংশ গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর অন্য অংশে গড়ে উঠেছে গাড়ি চালানো শেখানোর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। মাঠজুড়ে ভারী যানবাহন চলাচল ও নির্মাণসামগ্রীর স্তূপ থাকায় এটি এখন কার্যত একটি বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, মাঠটির চারপাশে রয়েছে এরশাদ ডিগ্রি কলেজ, কালীনারায়ণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বুড়িচং পাবলিক স্কুল ও আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। অদূরেই রয়েছে হাজী ফজর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাদ্রাসা। অন্তত দশটির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এই মাঠে খেলাধুলা করতো। জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ, আন্তঃউপজেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও এখানে অনুষ্ঠিত হতো।
বুড়িচং পৌরসভার বাসিন্দা শ্রমিক দলের সভাপতি আলাউদ্দিন ভুইয়া বলেন, “দিনের আলোতেই খেলার মাঠ দখল করে ব্যবসা চলছে। যারা বাধা দিতে চায়, তাদের ভয় দেখানো হয়। এই মাঠ বাঁচাতে কেউ মুখ খুললেই প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়তে হয়। তাই অনেকেই চুপ করে আছে।”
শিক্ষার্থীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি আহমেদ বলেন, “আমাদের খেলাধুলার জায়গা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মাঠে নামলেই ট্রাক আর ইটের স্তূপ চোখে পড়ে। খেলাধুলা করতে না পারায় আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছি। মাঠ ছাড়া আমাদের আর কোনো জায়গা নেই।”
এ বিষয়ে আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি বেদখল হয়ে আছে। এতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”
এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খেলার মাঠে নিয়মিত খেলাধুলারত শিক্ষার্থীরাও অভিযোগ করেছে। এর আগে কয়েক দফা দখলদারদের বিরুদ্ধে নোটিশ টানানো হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই অভিযান পরিচালনা করে খেলার মাঠটি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা হবে।”