
গাজী কুদ্দুছুর রহমান সোহাগ, বুড়িচং প্রতিনিধি।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে উপজেলার অধিকাংশ ডিলার ও খুচরা দোকানে গ্যাসের সিলিন্ডার শূন্য হয়ে পড়েছে। যেসব দোকান গ্যাস সরবরাহ করছেন, তারা অনেক সময় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নিচ্ছেন বলে অভিযোগ সাধারণ ক্রেতাদের।
উপজেলার বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, মানুষ গ্যাসের জন্য হাহাকার করছেন। সিলিন্ডার না পেয়ে অনেককে খালি হাতে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। বুড়িচং পৌরসভার বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, “তিন দিন ধরে অনেক দোকান ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছি না। বাড়িতে রান্না বন্ধ, তাই হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। এভাবে কতদিন চলবে?”
ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত গ্যাস না আসায় তারা বিক্রি করতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, “চাহিদার তুলনায় কোম্পানি থেকে খুবই কম গ্যাস পাঠানো হচ্ছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, যেসব কোম্পানি আমদানি বন্ধ করেছে, তাদের সিলিন্ডার বাজারে পড়ে থাকায় সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ২৮টি কোম্পানি এলপিজি ব্যবসা করলেও ২৩টির আমদানির অনুমোদন রয়েছে। তবে অধিকাংশ কোম্পানির আমদানি কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পথে, আবার অনেকেই ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে।
একদিকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে না।
অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান—এই দ্বিমুখী চাপে পড়েছেন বিক্রেতারা। ফলে গ্যাস না থাকলেও আতঙ্কে দোকান খুলতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। সরবরাহ সংকট ও প্রশাসনিক অভিযানের মধ্যে পড়ে চরম দিশেহারা অবস্থায় দিন পার করছেন এলপি গ্যাস বিক্রেতারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীত মৌসুমে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহজনিত জটিলতা এবং দেশের বাজার থেকে একাধিক অপারেটরের সরে যাওয়াই বর্তমান এলপিজি সংকট ও অতিরিক্ত দাম আদায়ের সুযোগ তৈরি করেছে। দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছাবে।